কারাগার থেকেই আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রীরা ভোট দিয়েছেন’ এই দাবি ভ্রান্ত, মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, কারাগার থেকে আওয়ামী লীগের কোনো এমপি বা সাবেক মন্ত্রী ভোট দিয়েছেন এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি , এমনকি কারাগার থেকে পলক নিশ্চিত করেছেন তারা কেউ ভোট দেননি। বরং কারা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ দাবি স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে।
ফ্যাক্টচেক
আরিফ মনোয়ার
2/8/20261 মিনিট পড়ুন


দাবিঃ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, কারাগারে আটক থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন এমপি ও সাবেক মন্ত্রী চলমান জাতীয় নির্বাচনে কারাগার থেকেই ভোট দিয়েছেন। এ দাবির সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জুনায়েদ আহমেদ পলক, সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হকের নাম উল্লেখ করা হয়।
দাবির উৎসঃ
এই দাবি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ব্যক্তিগত আইডি ও পেইজ থেকে ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টে বলা হয়, কারাবন্দি অবস্থায় থেকেও তারা ভোট প্রদান করেছেন। পরে কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যম বিষয়টি উদ্ধৃত করে সংবাদ প্রকাশ করে। এর ফলে দাবিটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সত্যতা যাচাইঃ
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে চেক পয়েন্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন, কারা অধিদপ্তরের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের অফিসিয়াল বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মন্তব্য পর্যালোচনা করে।
৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সালমান এফ রহমান, জুনায়েদ আহমেদ পলক ও আনিসুল হক পোস্টাল ব্যালটের জন্য কোনো নিবন্ধনই করেননি। ফলে তাদের পক্ষে কারাগার থেকে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। একই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননও ভোট দিতে পারেননি।
সংবাদের লিংক ১।
এ ছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি (রোববার) দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত ‘কারাগারের ৯৩% বন্দি অংশ নেননি ভোটে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ অনেক ভিআইপি বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন বা ভোট দিয়েছেন—যা সত্য নয়। এমন কোনো তথ্য আমরা দেইনি। তারা নিবন্ধনও করেননি।”
ওই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, সারা দেশে প্রায় ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে মাত্র ৬ হাজার ৩১৩ জন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করেন। যাচাই শেষে বৈধ নিবন্ধন হয় ৫ হাজার ৯৪০ জনের এবং ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোট দেন ৪ হাজার ৫৩৮ জন বন্দি। অর্থাৎ মোট বন্দির প্রায় ৯৩ শতাংশই এ বিশেষ ভোট কার্যক্রমে অংশ নেননি। সংবাদের লিংক ২।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও প্রকাশিত এক পোস্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, রাজবন্দি অবস্থায় থাকা কোনো এমপি বা সাবেক মন্ত্রীই কারাগার থেকে এই নির্বাচনের ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেননি।
এ ছাড়া ইনফোবাংলা (InfoBangla)-তে প্রকাশিত এক সংবাদের বরাতে জানা যায়, ভোট দেওয়ার বিষয়ে কারাগার থেকে পাঠানো এক চিঠিতে সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন,
“এই সরকার অবৈধ, এই ভোটও অবৈধ। আমরা কোনো ভোট দেইনি। জেলখানায় না খেয়ে মরলেও ভোট দেব না।” সংবাদের লিংক ৩।
উপরে উল্লিখিত তথ্য, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, কারাগার থেকে আওয়ামী লীগের কোনো এমপি বা সাবেক মন্ত্রী ভোট দিয়েছেন এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি , এমনকি কারাগার থেকে পলক নিশ্চিত করেছেন তারা কেউ ভোট দেননি। বরং কারা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ দাবি স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে।
অতএব, ‘কারাগার থেকেই আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রীরা ভোট দিয়েছেন’—এই দাবি ভ্রান্ত, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।
