হাতিয়ায় ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের অভিযোগ- পুলিশ বলছে প্রোপাগান্ডা

এএসপি হাতিয়া সার্কেল এর কল রেকর্ড ও হাতিয়ার স্থানীয় মানুষদের ভাষ্যমতে হাতিয়ায় বিএনপিতে ভোট না দেয়ায় এনসিপি সমর্থক মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনাটি মিথ্যা। পূর্বের সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন মিথ্যা অভিযোগ করেন মহিলা - জানান এএসপি এবং এলাকাবাসী।

ফ্যাক্টচেক

আব্দুর রাজ্জাক

2/15/20261 মিনিট পড়ুন

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে তিন সন্তানের জননী ধর্ষণের অভিযোগ করেন। শনিবার সকালে তিনি নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন।পরবর্তীতে এ ঘটনা নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করা হলে শনিবার রাতে বিষয়টি সোশাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে।তবে Check Point এর অনুসন্ধানে উঠে আসে এ সংক্রান্ত দাবিটি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। পূর্বের জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ করেন মহিলা।

দাবির সূত্রপাতঃ হাতিয়ায় ভোটকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের অভিযোগ শিরোনামে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে দৈনিক যুগান্তর, নিউজ লিংক।

পরবর্তীতে অভিযোগ এর সত্যতা যাচাইয়ের পূর্বেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে একটি ভূয়া ফটোকার্ড ছড়ানো হয় আসিফ মাহমুদ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে , যেখানে দাবি করা হয় ধানের শীষে ভোট না দেয়ায় ধর্ষনের শিকার হাতিয়ার মহিলা, পোস্ট লিংক।

এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে , “নোয়াখালী হাতিয়ায় ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে তিন সন্তানের জননীর ওপর সংঘঠিত ন্যাক্কারজনক ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে” - শিরোনামে একটি পোস্ট করা হয়, পোস্ট লিংক

এছাড়া একাধিক ফেইসবুক পেইজ এবং ব্যাক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এ সংক্রান্ত অসংখ্য গুজব ছড়ানো হয়।

অনুসন্ধানঃ ভাইরাল দাবিটির ফ্যাক্টচেক করতে নেমে Check Point টিম নোয়াখালীর এএসপি হাতিয়া সার্কেল এর একটি অডিও হাতে পায়।

যেখানে ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে এএসপি হাতিয়া সার্কেল কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান এটি অতিরঞ্জন এবং প্রোপাগান্ডা। পূর্বের সম্পত্তি জনিত বিরোধ এর প্রেক্ষিতে ঝামেলা হলে বিরোধীপক্ষকে কাবু করতে এই ধরনের অভিযোগ করেন মহিলা। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা পায়নি এবং তাদের তদন্ত চলমান রয়েছে, এ এস পির অডিও।

পরবর্তীতে Desh Tv নামক অনলাইন নিউজ পোর্টালে এএসপি নুরুল আনোয়ার এর বক্তব্যটি প্রচার করা হয় ,নিউজ লিংক

এছাড়া অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় স্থানীয় মানুষদের ধর্ষণের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তারা জানায় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অভিযোগ করেন সেই নারী। স্থানীয় বিএনপির অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ শুরু হয়, ভিডিও লিংক।

এছাড়া নোয়াখালী সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নারীকে গাইনি বিভাগে পাঠানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় পরিক্ষা নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত মতামত দেয়া যাবে।

হাতিয়ার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে জানেন না, খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে এবং এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থানায় করা হয় নি, নিউজ লিংক।

অতএব, এএসপি হাতিয়া সার্কেল এবং এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে হাতিয়ায় ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের ঘটনাটি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। এবং সংবাদমাধ্যমে পাওয়া তথ্য মতে অভিযোগটি এখনো প্রমানিত নয় নোয়াখালী সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা ধর্ষণের ব্যাপারে মতামত দেননি।