প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করে নি সাদ্দামের পরিবারঃ দাবিটি মিথ্যা এবং অপপ্রচার

কারা ফটকের সামনে সাদ্দামের শ্যালিকার ভিডিও ও একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয় যে পরিবার লিখিতভাবে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিল। সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, জেল কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন নাকচ করে এবং বাধ্য হয়ে মরদেহ জেল গেটে আনতে হয়। Check Point–এর হাতে পাওয়া আবেদনপত্র (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) থেকেও প্রমাণিত হয় যে পরিবার আইনি প্রক্রিয়ায় প্যারোল চেয়েছিল। তাই প্যারোলের আবেদন করা হয়নি এই দাবি সুস্পষ্টভাবে মিথ্যা।

ফ্যাক্টচেক

আব্দুর রাজ্জাক

1/24/20261 মিনিট পড়ুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জুড়ে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী সন্তানের জানাজায় তাকে অংশগ্রহণ করতে না দেয়ায় এবং অমানবিকভাবে জেল গেটে দেখা করতে বাধ্য করায় প্রশাসনের উপর তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ শুরু করে নেটিজেনরা। এরই প্রেক্ষিতে ২৪ জানুয়ারী রাতে একাধিক ফেসবুক পোস্ট ও সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয় নি। তবে সাদ্দামের পরিবার ও তার স্ত্রীর পরিবার থেকে এই দাবিটি অসত্য বলে জানানো হয় চেক পয়েন্টকে।

দাবির সূত্রপাতঃ এই দাবিটি সর্বপ্রথম করা হয়, ‘July Revolutionary Alliance - JRA’ এর ফেইসবুক পোস্ট থেকে,পোস্ট লিংক । সেখানে দাবি করা হয় ,প্যারোলের আবেদনই করেনি কেউ ,সময় স্বল্পতার কারণে পরিবার থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জেল গেটে মরদেহ দেখানোর। এটা পরিবারের সিদ্ধান্ত , প্রশাসনের নয়।

এছাড়া Private University Students Alliance Of Bangladesh - PUSAB থেকেও একই দাবিটি করা হয়। তারা দাবি করে বক্তব্যটি সাদ্দামের স্ত্রীর পরিবার থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, পোস্ট লিংক । পরবর্তীতে দৈনিক জনকণ্ঠ থেকে একই দাবি ছড়ানো হয়, নিউজ লিংক।

অনুসন্ধানঃ কারাফটকের সামনে কান্নায় জর্জরিত জুয়েল হাসান সাদ্দাম এর শ্যালিকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সেখানে সাদ্দামের শ্যালিকা এবং ভাইসহ একাধিক পরিবারের সদস্যরা জানায় তারা জেল কতৃপক্ষের নিকট লিখিত আকারে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করে। সমকাল, Channel 24 News সহ দেশের একাধিক প্রথম সারির গণমাধ্যমে এই ভিডিও টি মূহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে, নিউজ লিংক ১, নিউজ লিংক ২

সারাবাংলার সংবাদে বলা হয় , “জেল কতৃপক্ষ পরিবারের আবেদন নাকচ করে দেয় এবং বাধ্য হয়ে মরদেহ জেল গেটে আনতে হয়”, নিউজ লিংক।

এছাড়া একাধিক সংবাদমাধ্যমে সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফরায়েজী বলেন, “ স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলাম। তিনি কোনো হত্যা মামলার আসামি নন, রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে আছেন। এমন দুঃসময়ে মানবিক কারণে হলেও পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিলো” নিউজ লিংক।

চেক পয়েন্ট সাদ্দামের পরিবারের প্যরোলে মুক্তির আবেদন পত্র হাতে পেয়েছে ২৩ জানুয়ারি,২০২৬ এর। অর্থাৎ সাদ্দামের পরিবার আইনি প্রক্রিয়ায় প্যারোলে মুক্তির আবেদন করে সাদ্দামের স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর সাথে সাথে।

অতএব, প্যারোলে মুক্তির আবেদন পত্র পর্যালোচনা করে, জুয়েল হোসেন সাদ্দাম এর শ্যালিকা, তার চাচাতো ভাইয়ের বক্তব্য এবং একাধিক সংবাদ মাধ্যমের দেয়া তথ্য হতে জানা যায় তার পরিবার প্যারোলের আবেদন করলেও জেল কতৃপক্ষ তা নাকচ করে দেয় এবং প্যারোলের আবেদন করেনি এ সংবাদ সুস্পস্ট মিথ্যাচার।