স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নামে নাগরিক টিভি ও যমুনা টিভির আদলে তৈরি ফটোকার্ড ভুয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডগুলো নাগরিক টিভি ও যমুনা টিভির আসল ফটোকার্ড নয়। মূল ফটোকার্ডে অতিরিক্ত শব্দ ও বক্তব্য যুক্ত করে ভিন্ন অর্থ তৈরি করা হয়েছে। সঙ্গত কারণে, এসব ছবির ওপর ভিত্তি করে করা দাবিগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে চেকপয়েন্ট।
ফ্যাক্টচেক
আরিফ মনোয়ার
2/21/20261 মিনিট পড়ুন


দাবিঃ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এর নামে নাগরিক টিভি ও যমুনা টিভির আদলে তৈরি কিছু ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। নাগরিক টিভির আদলে তৈরি ফটোকার্ডে তাকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়— “৫ আগস্টসহ সকল মবের মামলা করতে পারবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।” অন্যদিকে যমুনা টিভির আদলে তৈরি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়— “নির্বিচারে জুলাই আন্দোলনের যত পুলিশ হত্যা করা হয়েছে তার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের বিচার করা হবে।”
দাবির সূত্রপাতঃ
উক্ত ফটোকার্ডগুলো প্রথমে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেগুলোকে নাগরিক টিভি ও যমুনা টিভির ফটোকার্ড দাবি করে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।
অনুসন্ধানঃ
নাগরিক টিভির ফটোকার্ডঃ
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া নাগরিক টিভির আদলে তৈরি ফটোকার্ডটিতে প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১৮ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করা হয়। তবে যাচাই করে দেখা যায়, ওই তারিখে নাগরিক টিভির একই ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করেছিল।
নাগরিক টিভির আসল ফটোকার্ডে শিরোনাম ছিল— “দেশে মব কালচারের দিন শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” । ফেসবুকে ছড়ানো ফটোকার্ডটির শিরোনাম ও ফন্ট ডিজাইন নাগরিক টিভির আসল ফটোকার্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে অতিরিক্ত শব্দ যুক্ত করে বক্তব্যের অর্থ ও প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করা হয়েছে। ভুয়া ফটোকার্ডটি ছড়িয়ে পড়ার পর ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সংবাদ মাধ্যম নাগরিক টিভির অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে নিশ্চিত করা হয় যে প্রচারিত ফটোকার্ডটি আসল নয়। এবং এমন কোনো ফটোকার্ড নাগরিক টিভি প্রচার করেনি।
যমুনা টিভির ফটোকার্ডঃ
যমুনা টিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডটির একটি মূল সংস্করণ রয়েছে। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সেই ফটোকার্ডটি ছিল বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভায় সালাহউদ্দিন আহমেদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সংক্রান্ত।তবে ফেসবুকে ছড়ানো সংস্করণে মূল ফটোকার্ডের সঙ্গে মিল রেখে অতিরিক্তভাবে এই বক্তব্য যুক্ত করা হয়— “নির্বিচারে জুলাই আন্দোলনের যত পুলিশ হত্যা করা হয়েছে তার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের বিচার করা হবে।” এই বক্তব্যটি যমুনা টিভির প্রকাশিত মূল ফটোকার্ডে ছিল না। এটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই যমুনা টিভির পক্ষ থেকে এটিকে গুজব বলে চিহ্নিত করা হয়।
অতএব, দাবিগুলো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডগুলো নাগরিক টিভি ও যমুনা টিভির আসল ফটোকার্ড নয়। মূল ফটোকার্ডে অতিরিক্ত শব্দ ও বক্তব্য যুক্ত করে ভিন্ন অর্থ তৈরি করা হয়েছে। সঙ্গত কারণে, এসব ছবির ওপর ভিত্তি করে করা দাবিগুলোকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করছে চেকপয়েন্ট।
