জামায়াতের আমিরের এক্স একাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবিটি মিথ্যা ও একটি সমন্বিত অপপ্রচার

এক্সের একাউন্ট রিকভারি নীতিমালা অনুযায়ী একাউন্ট হ্যাক হওয়ার সাথে সাথে একটি রিকুয়েস্ট সাবমিট করতে হয়। এছাড়া দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী হাই প্রোফাইল একাউণ্ট রিকভার করতে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে। এক্সে রিকুয়েস্ট সাবমিট করার ৩-৭ দিনের মধ্যে একাউন্ট ফিরিয়ে দেওয়া হয় তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে, এটা এক্স প্ল্যাটফর্মের অফিসিয়াল পলিসি। একাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি করার কিছুক্ষণের মধ্যে জামায়াতের আমির আবার এক্সে পোষ্ট দিয়ে ক্ষমা চান। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে জামায়তের আমিরের এক্স একাউন্ট হ্যাক হয়নি। বরং একাউন্টটি তার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ফ্যাক্টচেক

আশালতা বৈদ্য

2/3/20261 মিনিট পড়ুন

সম্প্রতি একটি এক্স পোষ্টে জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান নারীদের পতিতার সাথে তুলনা করেন, পরবর্তীতে জামাত এবং শফিক দাবি করেন তার এক্স একাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। চেক পয়েন্টের অনুসন্ধানে জামাতের আমিরের একাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি সুস্পষ্ট মিথ্যাচার বলে প্রতীয়মান।

দাবির সূত্রপাতঃ জামায়াতের আমিরের পোষ্ট ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে জামায়াত সংবাদ সম্মেলন ডেকে আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি তোলে। পরবর্তীতে জামাআয়তের অফিসিয়াল পেজ থেকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয় যেভাবে হ্যাক হয়েছিল এক্স একাউন্ট। ভিডিওটি ২৯ হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে ফেসবুকে ইতিমধ্যে। ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন ।

অনুসন্ধানঃ ভাইরাল দাবিটির ফেক্টচেক করতে নেমে Check Point টিম দেখে এ সম্পর্কে অনুসন্ধানে নামে। একাধিক দেশীয় এবং আন্তজার্তিক সংবাদ মাধ্যমের এক্সের একাউন্ট রিকভারি নিয়ে সংবাদ যাচাই করে জামায়াতের দাবির সাথে কোন মিল খুঁজে পায়নি।

এক্সের একাউন্ট রিকভারি নীতিমালা অনুযায়ী একাউন্ট হ্যাক হওয়ার সাথে সাথে একটি রিকুয়েস্ট সাবমিট করতে হয়। একাউন্ট রিকভার করতে কমপক্ষে ৩-৫ দিন সময় লাগে, ক্ষেত্রবিশেষে দুই সপ্তাহ ও লাগতে পারে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায় ‘ হ্যাকাররা যদি অ্যাকাউন্টের রিকভারি–সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন করে দেয়, তাহলে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হয়। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান গার্ডিও জানায়, এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে হয়, ফলে অ্যাকাউন্টে পুনরায় প্রবেশাধিকার পেতে সাধারণত এক থেকে তিন দিন সময় লাগে। তবে X সাপোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে রিকভারি অনুরোধ জমা দিলে কেসের জটিলতার ওপর নির্ভর করে পুরো প্রক্রিয়ায় তিন থেকে সাত কর্মদিবস লেগে যেতে পারে।

হাই-প্রোফাইল বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই সময় আরও বেশি হতে পারে। ছদ্মবেশ ধারণ, ফিশিং কিংবা বড় পরিসরের প্রতারণার ঝুঁকি থাকায় এসব অ্যাকাউন্টের বিষয়টি প্রায়ই ম্যানুয়াল পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। ফলে পুনরুদ্ধারে দুই সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। আর যদি হ্যাকের সঙ্গে স্ক্যাম কার্যক্রম জড়িত থাকে, তাহলে অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে সময়সীমা পাঁচ থেকে দশ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রেডিটে একাধিক এক্স ব্যবহারকারী জানিয়েছেন হ্যাক হওয়া একাউন্ট রিকভার করতে কয়েকদিন সময় লাগে। পড়ুন এখানে

এ ছাড়া একাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি করার কিছুক্ষণের মধ্যে জামায়াতের আমির আবার এক্সে পোষ্ট দিয়ে ক্ষমা চান। এক্সের নিতিমালা অনুযায়ী এত দ্রুত একাউন্টের এক্সেস নেওয়া সম্ভব নয়। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে জামায়তের আমিরের এক্স একাউন্ট হ্যাক হয়নি। বরং একাউন্টটি তার নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সুতরাং জামায়াতের আমিরের এক্স একাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবিটি মিথ্যা ও একটি সমন্বিত অপপ্রচার।