মির্জা আব্বাসের জন্য ঢাবি শিক্ষকের ভোট চাওয়ার দাবিটি মিথ্যাচার
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কোনো শিক্ষিকা নন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী। এ তথ্য বিভাগটির একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাডেমিক যাচাইয়ের মাধ্যমেও নিশ্চিত করা হয়েছে; বিভাগীয় নথিপত্রে তাঁকে শিক্ষিকা হিসেবে দেখানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দৈনিক যায় যায় দিন তাদের অফিসিয়াল পেইজ থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি সরিয়ে নেয়।
ফ্যাক্টচেক
আরিফ মনোয়ার
2/4/20261 মিনিট পড়ুন


দাবিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষিকা ঢাবি ক্যাম্পাসে বিএনপির পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।
দাবির সূত্রপাতঃ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ধারণকৃত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে এক নারীকে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ওই সময় ঘটনাস্থলে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন। দৈনিক যায় যায় দিনের ফেসবুক পেইজে সর্বপ্রথম ভিডিওটি পোষ্ট করা হয় এবং ক্যাপশনে লেখা হয় 'মির্জা আব্বাসের পক্ষে ভোট চাইছেন ঢাবি শিক্ষকরা।'ভিডিওতে ওই নারীকে 'ফুলার রোডে,ধানের শীষ' 'আব্বাস ভাইয়ের,ধানের শীষ' ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একাধিক ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে দাবী করা হয় ওই নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা। স্লোগানের-ভিডিওঃ লিংক।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যঃ
দাবিটি যাচাই করতে একাধিক উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়ঃ
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানান, 'ভিডিওতে দেখা নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষিকা নন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী।'
অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সাক্ষাৎকার দেখুন এখানে
একাডেমিক যাচাইঃ এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় চেকপয়েন্ট প্রতিনিধির। তাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, 'ওই নারী বর্তমানে বা অতীতে বিভাগের শিক্ষিকা ছিলেন না। বিভাগীয় নথিপত্রেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি'
মিডিয়া প্রতিক্রিয়াঃ অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম কর্তৃক বিষয়টি নিশ্চিত করার পর দৈনিক যায় যায় দিন তাদের অফিসিয়াল পেইজ থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি সরিয়ে নেয়।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা নারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কোনো শিক্ষিকা নন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী। এ তথ্য বিভাগটির একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাডেমিক যাচাইয়ের মাধ্যমেও নিশ্চিত করা হয়েছে; বিভাগীয় নথিপত্রে তাঁকে শিক্ষিকা হিসেবে দেখানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দৈনিক যায় যায় দিন তাদের অফিসিয়াল পেইজ থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি সরিয়ে নেয়। অতএব, মির্জা আব্বাসের জন্য ঢাবি শিক্ষকের ভোট চাওয়ার দাবিটি অপপ্রচার।
