তারেক রহমান ফাতেমা বেগমকে বোন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন; এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া
দাবিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম প্রতিবেদন বা বিএনপি ও তারেক রহমানের ভেরিফায়েড কোনো সূত্রে তথ্য নেই। ভাইরাল ছবি ও ভিডিওগুলোর রিভার্স ইমেজ সার্চে বিশ্বাসযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি। গুগলের SynthID, MIT Media Lab-এর AI Detection Framework এবং Hive–এর বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এসব ছবি ও ভিডিও এআই-জেনারেটেড ও ডিপফেক।
ফ্যাক্টচেক
আরিফ মনোয়ার
1/11/20261 মিনিট পড়ুন


সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকে নিয়ে ফেসবুকে বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাতেমা বেগম ও তারেক রহমানের ছবিযুক্ত এসব পোষ্টে দাবি করা হয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সহযোগী ফাতেমাকে বোন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন তারেক রহমান। তবে চেক পয়েন্টের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে , এই দাবিটি মিথ্যা অপপ্রচার ।
দাবির সূত্রপাতঃ
ছবিটি সর্বপ্রথম '12মায়া বিনোদন' নামক একটি ফেসবুক পেজে পোষ্ট করা হয়। গত ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) করা এই পোষ্টের ক্যাপশনে লেখা ছিলো 'তারেক রহমান ফাতেমাকে নিজের বোন হিসেবে গ্রহণ করলেন সুবহানাল্লাহ তার প্রমান একজন বড় মনের মানুষ।ছা
মুহুর্তেই ব্যপক সাড়া ফেলে ছবিটি। এখনো পর্যন্ত ওই পোষ্টটিতে প্রায় ১ লাখের বেশি রিয়েক্ট ও ৮ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে। এরপরেই আরো একাধিক ফেসবুক পেজ,গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডিতে পোষ্ট করা হয় ছবিটি। এআই জেনারেটেড এই ছবিটি পোষ্ট করে অনেককেই দাবি করতে দেখা যায় যে, তারেক রহমান ফাতেমাকে নিজের বোন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। লিংক ১, লিংক ২, লিংক ৩, লিংক ৪ । এই ভিডিওগুলো ফেসবুকে কয়েক হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে এবং ভিউ হয়েছে দুই মিলিয়নের অধিক। এসব দাবিতে প্রচারিত ছবিতে ফাতেমা বেগমের সাথে তারেক রহমানকে দেখা যায়।
যাচাইঃ
তারেক রহমান ও বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজসহ প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দেশের কোনো সংবাদমাধ্যমেও ছবিটি নিয়ে, ফাতেমাকে বোনের স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং এবং গুগলে এই সংক্রান্ত কোন নির্ভরযোগ্য সংবাদ পাওয়া যায়নি। ছবি এবং ভিডিওগুলোর রিভার্স ইমেজ সার্চে এটির উৎস নিয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ছবিটি গুগলের এআই জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি (SynthID) দিয়েও যাচাই করা হয়। তারেক রহমান ও ফাতেমা বেগমের ছবিটি যাচাই করতে দেওয়া হলে সিন্থআইডি জানায়, এটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা এডিটেড। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও চেক পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করে MIT Media Lab-এর AI detection framework অনুসরণ করে।পর্যালোচনার সময় ভিডিওগুলোতে অঙ্গভঙ্গি, পূর্বে প্রকাশিত একাধিক ছবির সঙ্গে তার চেহারার সামঞ্জস্যতা এবং বাচনভঙ্গি বিশ্লেষণ করা হয়।এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে MIT Media Lab-এর AI detection framework অনুযায়ী ভিডিওগুলো ডিপফেক।
এছাড়া, এআই ডিটেকশন প্ল্যাটফর্ম Hive–এর মাধ্যমে ভিডিওগুলোর ফ্রেম ও ছবি বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে Hive জানায়, ছবি এবং ভিডিওগুলো এআই-জেনারেটেড।
প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফাতেমা বেগমের আগের একটি ছবি পাওয়া যায়। এই ছবির সঙ্গে তারেক রহমানের ও ফাতেমা বেগমের প্রচারিত ছবিটির মিল পাওয়া যায়। দুটি ছবিতেই ফাতেমা বেগমকে একই রঙের পোশাকে দেখা যায়। পাশাপাশি তার ওই সময়কার চেহারার গঠনের সঙ্গেও মিল পাওয়া যায়। এছাড়াও ভাইরাল ছবিটি প্রথম প্রকাশ করা 12মায়া বিনোদন ফেসবুক পেজে এরকম আরো একাধিক এআই জেনারেটেড ছবি দেখতে পাওয়া যায়। এসব ছবির ডানপাশে নিচের কোণে বাংলায় ‘এআই দিয়ে তৈরি’ লেখাও দেখতে পাওয়া যায়। তবে অনেক ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ‘এআই দিয়ে তৈরি’ লেখাটি বাদ দিয়ে পোষ্ট করতেও দেখা যায়।
উপরে উল্লিখিত তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তারেক রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের গৃহকর্মী ফাতেমা বেগমকে নিয়ে প্রচারিত ছবি ও ভিডিওগুলো বিকৃত, এআই-জেনারেটেড এবং মিথ্যা তথ্যভিত্তিক। এগুলোর মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
