তারেক রহমান নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করেছেন বঙ্গবন্ধু
১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক বাংলা পত্রিকায় এ সংক্রান্ত ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল; একই তথ্য সংরক্ষিত আছে মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভে।
ফ্যাক্টচেক
আরিফ মনোয়ার
2/21/20261 মিনিট পড়ুন


দাবিঃ
সম্প্রতি একাধিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পরেছে যে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দাবির সূত্রপাতঃ
২১ ফেব্রুয়ারি(শনিবার) বেলা ১১টা ৯ মিনিটে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ‘ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া প্রধানমন্ত্রীর’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়
“ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনি একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানেই দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়—
“প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের পরপরই শহীদ মিনার ত্যাগ করেন। তবে এবার সেই প্রথার বাইরে গিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণেই দোয়া মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।”
এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে আরও একাধিক সংবাদমাধ্যম তারেক রহমানের মোনাজাতকে ইতিহাসে “প্রথম” বলে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করে। একই দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
অনুসন্ধানঃ
দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে ঐতিহাসিক নথি ও পুরোনো সংবাদপত্র যাচাই করেছে চেকপয়েন্ট।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা নয়। ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়েছিলেন।
এর প্রমাণ হিসেবে ‘দৈনিক বাংলা’ পত্রিকায় ১৯৭২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শহীদ মিনারে মোনাজাতে অংশ নেওয়ার ছবি ও বিবরণ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই দিন সকালে তিনি আজিমপুর কবরস্থান থেকে নগ্নপদে শোভাযাত্রা সহকারে শহীদ মিনারে আসেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণেই দোয়া ও মোনাজাত করেন।
এছাড়াও, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ এর ওয়েবসাইটে এ সংরক্ষিত ১৯৭২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির দৈনিক বাংলার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘শহীদ মিনারে মোনাজাত করছেন বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক ক্যাপশনে ওইদিনের ছবি রয়েছে। এছাড়াও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবিটি আলোচনায় আসার পর একাধিক সংবাদমাধ্যম বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করেছে। চ্যানেল আই , ঢাকা ডায়েরি সহ বেশ কিছু সাংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, তারেক রহমান নয় বরং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করেন।
অর্থাৎ, শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দোয়া ও মোনাজাতের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে, যা ইতিহাসে নথিভুক্ত।তারেক রহমান একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিলেও এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে “প্রথম” বলা সঠিক নয়। এর আগে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একই স্থানে শহীদ দিবসে মোনাজাতে অংশ নিয়েছিলেন—যার প্রামাণ্য নথি বিদ্যমান। অতএব, কিছু সংবাদমাধ্যম ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে করা “ইতিহাসে প্রথম” দাবি তথ্যগতভাবে বিভ্রান্তিকর।
