কাশ্মীরে হাদির গ্রাফিতি এ-আই দিয়ে তৈরি, বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই।

গুগল ইমেজ সার্চে এ ধরনের কোনো বাস্তব ছবির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। হাইভের এআই ডিটেক্টর অনুযায়ী ছবিটি এআই-জেনারেটেড হওয়ার সম্ভাবনা ৫৪%। গুগল ও বিংসহ একাধিক সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজেও ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ মেলেনি। এছাড়া ভারতের ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম D-Intent Data ও DFRAC দাবি করেছে—কাশ্মীরে এমন কোনো গ্রাফিতি নেই এবং ছবিটি ভিত্তিহীন ও এআই-জেনারেটেড প্রোপাগান্ডা।

ফ্যাক্টচেক

রেদওয়ান ইবনে সাইফুল

12/29/20251 মিনিট পড়ুন

ওসমান হাদি সংবাদ প্রকাশের সাথে ফেসবুক, এক্সে একটি দাবি প্রচার করা হয় ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ওসমান হাদির গ্রাফিতি একেছে কাশ্মীরের জনগণ। তবে চেক পয়েন্টের অনুসন্ধানে এমন কোন ঘটনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।


এই দাবির সূত্রপাত ঘটে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কার হওয়া সৈয়দ জিয়াউল আহসানের ফেসবুক পোষ্ট থেকে । তিনি ফেসবুক পোষ্টে লিখেন ‘’কীভাবে একজন যুবক পুরো একটি রিজিয়নের আন্দোলনের ব্যানার হয়ে যেতে পারে - চিন্তাও করা যায় না! ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীরাও শ্রীনগর শহরের দেয়ালে শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে একটি গ্রাফিতি এঁকেছে।’’ এই পোষ্ট ৩,১০০+ শেয়ার করা হয়েছে ফেসবুকে। এধরণের আরো কয়েকটি পোস্ট ভাইরাল হয় ফেসবুকে যার লিংক পোস্ট ২- পোস্ট ৩

এছাড়া এক্সেও একাধিক পোস্ট দেখা যায় জসিম নামে এক ব্যাক্তির টুইটে যেটি ৫১,০০০ বার দেখা হয়েছে এখন পর্যন্ত ,১৮০ বার রিটুইট করা হয়েছে। ‘In Downtown Srinagar, Indian-occupied Jammu and Kashmir, pro-independence organizations there have painted a graffiti featuring martyr Osman Hadi.’ এই ব্যাক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়া আফাজার শাহ নামে আরেকজন ব্যাক্তির টুইট দেখা যায় । তিনি লিখেন ‘’ Hadi fever has reached Kashmir! Shaheed Osman Hadi is becoming a rebel icon for his unwavering stance against Indian Hegemony! এছাড়া একাধিক পাকিস্তানী একাউন্ট এবং জামায়াত সংশ্লিষ্ট একাউন্ট থেকে এই দাবি করা হয় , যেগুলোর লিংক এখানে।’

পোস্টগুলোর নিচে মানুষের মন্তব্যগুলো পড়ে বোঝা যায়, খবরটি সত্য বলে ধরে নিয়েছেন অনেকে। এছাড়া একটি আর্টিকেল ও লেখা হয়েছে এই দাবির উপর ভিত্তি করে।

এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানে নামে চেকপয়েন্ট। গুগলের ইমেজ সার্চ ব্যবহার করে এধরণের কোন ছবির বাস্তব অস্তিত্ব পায়নি চেকপয়েন্ট। এছাড়া এ আই হাইভের এ আই ডিটেক্টর দেখাচ্ছে হাদির গ্রাফিতির ছবি টি এ আই জেনারেটেড হওয়ার সম্ভবনা ৫৪%, অর্থাৎ ছবিটি এ -আই জেনারেটেড। গুগলে, বিং একাধিক সার্চইঞ্জিনে অনুসন্ধান করেও আমরা এই সংক্রান্ত কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি ভারতীয় কিংবা আন্তজার্তিক কোন সংবাদমাধ্যম থেকে। তবে ভারতীয় ফ্যাক্ট চেকিং প্ল্যাটফর্ম D-intent Data এক এক্স পোষ্টে দাবি করছে ভারতের কাশ্মীরে এধরণের কোন গ্রাফিতি নেই। ভারতের আরেকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্ল্যাটফর্ম DFRAC ও গ্রাফিতি আকার দাবিকে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করেছে তাদের এক্স পোস্টে। তাদের অনুসন্ধানে ছবিটি ১০০% এ -আই জেনারেটেড বলে প্রতীয়মান।

অর্থাৎ ভারতীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায় কাশ্মীরে হাদির গ্রাফিতির দাবিতে প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা এবং বহুল প্রচারিত ছবিটি এ-আই জেনারেটেড।

প্রসঙ্গত ১২ ডিসেম্বর হাদি গুলিবিদ্ধ হন। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।